আপনার লেখা আর্টিকেল আমাদের সাইটে পাবলিশ করুন

এলগারের ৫ রানের আক্ষেপ, মারক্রাম-দু প্লেসির ফিফটি

এলগারের ৫ রানের আক্ষেপ, মারক্রাম-দু প্লেসির ফিফটি

 

দেড়শর কাছাকাছি জুটিতে দলকে ভালো শুরু এনে দিলেন এইডেন মারক্রাম ও ডিন এলগার। এরপর হঠাৎ দিক হারাতে বসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দারুণ ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলকে লিডের পথে রেখেছেন ফাফ দু প্লেসি ও টেম্বা বাভুমা।

সেঞ্চুরিয়নে রোববার প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৯৬ রানে থামিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে দিন শেষ করে ৪ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে। সফরকারীদের চেয়ে ৭৯ রানে পিছিয়ে আছে তারা।

মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরির দেখা পাননি ওপেনার এলগার। ফিফটির পর বেশি দূর যেতে পারেননি আরেক ওপেনার মারক্রাম। তবে, ক্রিজে জমে গেছে দু প্লেসি ও বাভুমার জুটি। দু প্লেসি খেলছেন ৫৫ রানে, বাভুমা ব্যাট করছেন ৪১ রানে।

৬ উইকেটে ৩৪০ রান নিয়ে দিন শুরু করে শ্রীলঙ্কা। ১১ ওভার খেলতেই গুটিয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে চারশ রানের কাছে নিয়ে যান আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটসম্যান দাসুন শানাকা।

২৫ রানে আগের দিন অপরাজিত থাকা এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করেন ৬৯ বলে। মাটি কামড়ে উইকেটে থেকে তাকে সঙ্গ দেন কাসুন রাজিথা।

৪৯ বলে ১২ রান করা রাজিথাকে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে ৬৭ রানের জুটি ভাঙেন অভিষিক্ত লুথো সিপামলা। পরে দ্রুত বিশ্ব ফার্নান্দো ও লাহিরু কুমারাকে ফেরান তরুণ এই পেসার।

শানাকা মাঠ ছাড়েন ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে। তার ৮৭ বলের ইনিংসে তিনটি চার ও পাঁচটি ছক্কা। আগের দিন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার সফরই শেষ হয়ে গেছে।

এলগার ও মারক্রামের ব্যাটে দুর্দান্ত সূচনা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দারুণ সব শটে দুই ওপেনারই এলোমেলো করে দেন সফরকারী বোলারদের লাইন লেংথ।

মাত্র ২.১ ওভার বোলিং করে পেসার রাজিথা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে আরও বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা। তাদের বোলার ঘাটতির ফায়দা ভালোভাবেই তুলেছে স্বাগতিকরা।

ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রাখেন এলগার-মারক্রাম। ৬৪ বলে মারক্রাম তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি। ভানিদু হাসারাঙ্গাকে টানা তিন চার মেরে ৭১ বলে পঞ্চদশ ফিফটিতে পৌঁছান এলগার।

ইনিংস লম্বা করতে পারেননি মারক্রাম। ১৪ চারে ৬৮ রান করা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান বিশ্ব ফার্নান্দোর বলে আলগা শটে গালিতে ধরা পড়েন শানাকার হাতে। তার বিদায়ে ভাঙে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৪১ রানের শুরুর জুটি।

রাসি ফন ডার ডাসেনের সঙ্গে ৫৯ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়েন এলগার। ফন ডার ডাসেনকে ফিরিয়ে লাহিরু কুমারা জুটির ভাঙার পরের ওভারেই আক্ষেপ নিয়ে ফিরে যান এলগার। শানাকাকে ফিরতি ক্যাচ দেন এই ওপেনার। ১৩০ বলে খেলা তার ৯৫ রানের ইনিংস গড়া ১৬ চারে।

আত্মবিশ্বাসী শুরু করা অধিনায়ক কুইন্টন ডি কককে থিতু হতে দেননি হাসারাঙ্গা। লেগ স্পিনারের দারুণ এক ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। টেস্টে হাসারাঙ্গার প্রথম উইকেট।

অল্প সময়ে তিন উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন দু প্লেসি ও টেম্বা বাভুমা। চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তায় সামলান শুরুর চাপ। পরে সুযোগ মতো খেলেন শট। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে তাদের ৯৭ রানের জুটিতে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পথে ছুটছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

 

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৯৬ ওভারে ৩৯৬ (আগের দিন ৩৪০/৬) (শানাকা ৬৬*, রাজিথা ১২, ফার্নান্দো ও, কুমারা ০; এনগিডি ১৯-৩-৬৪-১, সিপামলা ১৬-১-৭৬-৪, নরকিয়া ২২-৩-৮৮-১, মুল্ডার ২০-৪-৬৯-৩, মহারাজ ১৯-৩-৭৪-০)

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৭২ ওভারে ৩১৭/৪ (এলগার ৯৫, মারক্রাম ৬৮, ফন ডার ডাসেন ১৫, দু প্লেসি ৫৫*, ডি কক ১৮, বাভুমা ৪১*; ফার্নান্দো ১৫-২-৫৯-১, রাজিথা ২.১-০-১৬-০, শানাকা ১৬.৫-২-৫৬-১, হাসারাঙ্গা ২৩-৩-৯৯-১, কুমারা ১৫-০-৭৩-১)

DM Sayed
মানুষ কখনো হারে না, হয়তো সে জিতবে নয়তো সে শিখবে